সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

রাতের আঁধারে কৃষিজমির মাটি কাটার মহোৎসব

  • আপলোড সময় : ১০-০৪-২০২৫ ১২:২৯:৪৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৪-২০২৫ ১২:৩৫:৩৯ পূর্বাহ্ন
রাতের আঁধারে কৃষিজমির মাটি কাটার মহোৎসব
মো. বায়েজীদ বিন ওয়াহিদ ::

জামালগঞ্জে রাতের আঁধারে গোচারণ ভূমি ফসলি জমিসহ কান্দা কাটার মহোৎসব শুরু হয়েছে
​​প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ফসলি জমি ও গোচারণ ভূমির মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে করা হচ্ছে বিক্রি। এছাড়াও হাওরের মাঝে ঘরবাড়ি নির্মাণের নামে অপরিকল্পিতভাবে মাটি ফেলে বাঁধ দিয়ে হুমকিতে ফেলা হচ্ছে হাওরের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ। ধ্বংস করা হচ্ছে জীববৈচিত্র্য। মালিকানা ও বিভিন্ন সরকারি কান্দা থেকে অবাধে মাটি বিক্রি করে শ্রেণি পরিবর্তন করছে একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ।
সম্প্রতি এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসন ও জামালগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামবাসী। অভিযোগের ভিত্তিতে জামালগঞ্জ থানা পুলিশের অভিযানে ইনাতনগর গ্রামের পাশেই মাটি কাটার ঘটনাস্থল থেকে ফখরুল ইসলাম ওরফে আমিনুর রশিদকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত আমিনুর রশিদ আদালতের মাধ্যমে পরদিন জামিনে আসার পর তার নির্দেশে পূনরায় এস্কেভেটর দিয়ে রাতের আঁধারে মাটি কাটা শুরু করে চক্রটি।
পরে গ্রামের শতাধিক নারী-পুরুষ সংশ্লিষ্ট স্থানে মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানান।
কিন্তু তবুও থামছে না তাদের মাটিকাটা। এতে জনমনে প্রশ্ন জেগেছে কার ইশারায় এবং কোন খুঁটির জোরে প্রশাসন ও গ্রামবাসীকে উপেক্ষা করে অবাধে মাটি কাটছে চক্রটি।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ঘুরে ঘটনার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়। উপজেলার ফেনারবাঁক ইউনিয়নের ইনাতনগর গ্রামের কবরস্থানের পাশে অবস্থিত ওই গ্রামের এজমালি রেকর্ডভুক্ত গোচারণ ভূমি (লায়েক পতিত)। সেখানে দেখা যায়, রাতের আঁধারে এস্কেভেটর দিয়ে ৪-৫ ফুট গভীর ও প্রায় একশ ফুট প্রশস্ত করে একাধিক স্থান থেকে মাটি কেটে নিয়ে গেছে একটি সংঘবদ্ধ গ্রুপ।

এ ব্যাপারে ইনাতনগর গ্রামের আবুল লেইছ বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবারের এজমালী রেকর্ডভুক্ত মালিকানাধীন ওই গোচারণ ভূমি। সম্প্রতি আমাদের গ্রামের আমিনুর রশিদের নির্দেশে কয়েকটা পরিবার উক্ত গোচারণ ভূমির মধ্যখানে অপরিকল্পিতভাবে নতুন বাড়িঘর নির্মাণের পরিকল্পনা করে। পরে এটি বাস্তবায়নের জন্য তারা এই গ্রামের এজমালী জায়গার ভূমি থেকেই মাটি কাটা শুরু করে। এতে গ্রামের লোকজন বাঁধা দিলে দিনের বদলে রাতের আঁধারে মাটি কাটে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানায় অভিযোগ করেছি। এভাবে মাটি কেটে নিয়ে গেলে আমাদের ধান শুকানোসহ গরু চড়ানোর কোনো জায়গা থাকবেনা।

গ্রামের আরেক বাসিন্দা মো. তোফায়েল বলেন, রাত ১১টায় তাদের মাটি কাটা শুরু হয়ে ভোর পর্যন্ত চলে। এভাবে প্রতিদিন গোচারণ ভূমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে নতুন বাড়িঘর নির্মাণের নামে যেভাবে মাটি কাটা ও ফেলা হচ্ছে এতে করে একদিকে গ্রামবাসীর গরুর ঘাস খাওয়ার গোচারণ ভূমি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে বৈশাখ মাসে কৃষকদের ধান শুকানোর খলা হিসেবে ব্যবহার করার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ার হুমকিতে পড়েছে। এতে গ্রামবাসী বাঁধা দিলে পরবর্তীতে বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে একটি সমাধান হলেও পুনরায় আবার শর্ত ভঙ্গ করে আগের মতই অবাধে মাটিকাটা শুরু করে তারা।
পরে উপজেলা প্রশাসন ও জামালগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি আমরা।

অভিযোগের বিষয়ে ফখরুল ইসলাম ওরফে আমিনুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গ্রামের কয়েকটি পরিবার নতুন একটি ছোট গ্রাম নির্মাণের জন্য তারা উল্লেখিত ভূমি থেকে মাটি কেটেছে। তবে আমি এটার মধ্যে জড়িত নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য সার্ভেয়ারকে দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স